মহিলাদের ইহরাম বাঁধার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে হজ বা উমরাহর প্রস্তুতি অনেক সহজ হয়ে যায়। নারীদের জন্য নির্দিষ্ট দুই টুকরা ইহরামের কাপড় নেই। বরং পরিষ্কার, ঢিলেঢালা ও পর্দাসম্মত পোশাক পরেই একজন নারী ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন।
তবে ইহরামের পোশাকের পাশাপাশি নিয়ত, তালবিয়া, মীকাত এবং নিষিদ্ধ কাজ সম্পর্কে জানা জরুরি। বিশেষ করে নেকাব, হাতমোজা, সুগন্ধি ও মাসিক অবস্থায় করণীয় নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
এই নির্দেশিকায় মহিলাদের ইহরামের পোশাক, ইহরাম বাঁধার দোয়া, বিমানে ইহরাম গ্রহণ, তালবিয়া পাঠ এবং ইহরাম অবস্থায় নারীদের করণীয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। হজ ও উমরাহর সেবা সম্পর্কে জানতে Latif Travels BD ওয়েবসাইট দেখতে পারেন।
ইহরাম কী?
ইহরাম শুধু একটি পোশাকের নাম নয়। মূলত হজ বা উমরাহ পালনের নিয়ত করে তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে বিশেষ ইবাদতের অবস্থায় প্রবেশ করাকে ইহরাম বলা হয়।
একজন নারী বাড়ি বা বিমানবন্দর থেকে ইহরামের উপযোগী পোশাক পরে নিতে পারেন। তবে শুধু পোশাক পরলেই তিনি ইহরাম অবস্থায় প্রবেশ করেন না। নিয়ত করার পর তালবিয়া পাঠ শুরু হলে ইহরামের বিধিনিষেধ কার্যকর হয়।
অতএব, পোশাকের পাশাপাশি নিয়ত, তালবিয়া এবং মীকাত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। অফিসিয়াল ইহরাম গাইডেও নিয়ত ও তালবিয়ার মাধ্যমে হজ বা উমরাহর ইবাদতে প্রবেশের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
মহিলাদের ইহরামের নির্দিষ্ট পোশাক আছে কি?
মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট রং বা নকশার কোনো ইহরামের পোশাক নির্ধারিত নেই। তাই একজন নারী নিজের স্বাভাবিক শালীন পোশাক পরেই ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ, ঢিলেঢালা আবায়া, বোরকা অথবা পর্দাসম্মত সালোয়ার-কামিজ পরা যেতে পারে। তবে পোশাক পাতলা, আঁটসাঁট কিংবা অতিরিক্ত আকর্ষণীয় হওয়া উচিত নয়।
মহিলাদের ইহরামের পোশাক কেমন হওয়া উচিত?
ইহরামের জন্য পোশাক নির্বাচন করার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে:
- শরীর যথাযথভাবে আবৃত থাকতে হবে
- পোশাক ঢিলেঢালা হতে হবে
- কাপড় পাতলা বা স্বচ্ছ হওয়া যাবে না
- চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি করা যাবে না
- অতিরিক্ত নকশা ও সাজসজ্জা এড়িয়ে চলতে হবে
- দীর্ঘ সময় ব্যবহারের জন্য আরামদায়ক হতে হবে
এছাড়া সৌদি আরবের গরম আবহাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার। তাই হালকা, আরামদায়ক ও সহজে বাতাস চলাচল করে—এমন কাপড় নির্বাচন করা ভালো।
মহিলাদের ইহরামের পোশাক কি সাদা হতে হবে?
না, মহিলাদের ইহরামের পোশাক সাদা হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
সাদা, কালো, ধূসর, বাদামি অথবা অন্য যেকোনো মার্জিত রঙের পোশাক পরা যায়। তবে পোশাকের রং ও নকশা যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ না করে।
অন্যদিকে, পুরুষদের জন্য সাদা ইহরামের কাপড় ব্যবহার করা উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়। নারীদের ক্ষেত্রে যেকোনো শালীন ও উপযুক্ত পোশাক গ্রহণযোগ্য।
নারীরা কি সেলাই করা পোশাক পরতে পারবেন?
হ্যাঁ, নারীরা সেলাই করা পোশাক পরে ইহরাম গ্রহণ করতে পারবেন।
সেলাই করা জামা, সালোয়ার, আবায়া কিংবা বোরকা নারীদের জন্য নিষিদ্ধ নয়। মূলত শরীরের আকৃতি অনুযায়ী তৈরি পোশাক পরিধানের নিষেধাজ্ঞাটি পুরুষদের ইহরামের সঙ্গে সম্পর্কিত। অফিসিয়াল ইহরাম নির্দেশিকায়ও সেলাই করা পোশাকের নিষেধাজ্ঞাকে পুরুষদের জন্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার আগে করণীয়
সঠিক প্রস্তুতি থাকলে ইহরাম অবস্থায় অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা এড়ানো যায়। তাই নিয়ত করার আগে কয়েকটি কাজ সম্পন্ন করে নেওয়া ভালো।
গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
প্রথমে ভালোভাবে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া উত্তম। কোনো কারণে গোসল করা সম্ভব না হলে অজু করে নেওয়া যেতে পারে।
মাসিক অবস্থায় থাকা নারীও গোসল করে ইহরাম গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারেন। কারণ মাসিক বা হায়েয ইহরামের নিয়ত করার ক্ষেত্রে বাধা নয়।
নখ ও অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা
ইহরাম অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে নখ বা চুল কাটা নিষিদ্ধ। তাই প্রয়োজন থাকলে ইহরামের নিয়ত করার আগেই নখ কেটে এবং অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।
এরপর চুল ভালোভাবে আঁচড়ে বা গুছিয়ে রাখা যেতে পারে। ফলে ইহরাম অবস্থায় চুলের যত্ন নিতে সুবিধা হবে।
আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করা
হজ ও উমরাহ পালনের সময় দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। পাশাপাশি ভিড় ও গরম আবহাওয়ার মধ্যেও থাকতে হতে পারে।
এ কারণে ঢিলেঢালা, হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক নির্বাচন করা জরুরি। অতিরিক্ত ভারী, আঁটসাঁট কিংবা অস্বস্তিকর পোশাক এড়িয়ে চলাই ভালো।
সুগন্ধিমুক্ত পণ্য সঙ্গে রাখা
ইহরাম গ্রহণের পর সুগন্ধি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হয়। তাই ভ্রমণের ব্যাগে সুগন্ধিমুক্ত সাবান, শ্যাম্পু, লোশন ও টিস্যু রাখা সুবিধাজনক।
তবে কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে তার লেবেল দেখে নেওয়া উচিত। এতে ভুল করে সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ব্যবহারের আশঙ্কা কমবে।
নামাজ আদায় করা
ফরজ নামাজের সময় হলে নামাজ আদায়ের পর ইহরামের নিয়ত করা যায়। এছাড়া নফল নামাজ আদায় করার সুযোগ থাকলেও ইহরামের জন্য আলাদা দুই রাকাত নামাজকে বাধ্যতামূলক মনে করা উচিত নয়।
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার নিয়ম
মহিলারা কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে হজ বা উমরাহর ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন।
প্রথম ধাপ: মীকাত সম্পর্কে জেনে নিন
মীকাত হলো নির্ধারিত সীমারেখা। হজ বা উমরাহর উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তি ইহরাম ছাড়া এই সীমা অতিক্রম করতে পারেন না।
যারা দূরবর্তী দেশ থেকে বিমান, স্থল বা সমুদ্রপথে মক্কায় যান, তাদের নির্ধারিত মীকাত অথবা মীকাতের সমান্তরাল স্থান অতিক্রমের আগেই ইহরাম গ্রহণ করতে হয়। জেদ্দাগামী বিমানগুলো সাধারণত মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছালে ঘোষণা দিয়ে থাকে।
দ্বিতীয় ধাপ: উপযুক্ত পোশাক পরুন
বাড়ি, হোটেল অথবা বিমানবন্দর থেকেই ইহরামের উপযোগী পোশাক পরে নেওয়া যায়। এতে বিমানের মধ্যে পোশাক পরিবর্তনের অসুবিধা থাকে না।
তবে মনে রাখতে হবে, পোশাক আগে পরলেও সঙ্গে সঙ্গে ইহরামের বিধিনিষেধ শুরু হয় না। নিয়ত ও তালবিয়া শুরু করার পরই একজন নারী ইহরাম অবস্থায় প্রবেশ করেন।
তৃতীয় ধাপ: হজ বা উমরাহর নিয়ত করুন
নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্প। অর্থাৎ, আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজ বা উমরাহ পালন করতে যাচ্ছেন—এই সিদ্ধান্ত মনে স্থির করতে হবে।
উমরাহর জন্য বলা যায়:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ عُمْرَةً
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা উমরাতান।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি উমরাহ পালনের জন্য আপনার ডাকে উপস্থিত হয়েছি।
হজের জন্য বলা যায়:
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ حَجًّا
উচ্চারণ: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা হাজ্জান।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি হজ পালনের জন্য আপনার ডাকে উপস্থিত হয়েছি।
এই শব্দগুলো উচ্চারণের পাশাপাশি অন্তরে হজ বা উমরাহর দৃঢ় সংকল্প থাকাই মূল বিষয়।
চতুর্থ ধাপ: তালবিয়া পাঠ করুন
নিয়তের পর তালবিয়া পাঠ করতে হবে। তালবিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইহরামের বিধিনিষেধও কার্যকর হবে।
পুরুষেরা উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করেন। অন্যদিকে, নারীরা নিজেরা শুনতে পারেন—এমন শান্ত ও নিচু স্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন।
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার দোয়া
অনেকেই ইহরামের কাপড় পরার জন্য আলাদা দোয়া খোঁজেন। তবে ইহরামের পোশাক পরার জন্য স্বতন্ত্র কোনো নির্ধারিত দোয়া নেই।
মূলত হজ বা উমরাহর নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করা হয়। তাই প্রচলিতভাবে তালবিয়াকেই ইহরামের দোয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তালবিয়া আরবিতে
لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيكَ لَكَ
তালবিয়ার বাংলা উচ্চারণ
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান্-নি‘মাতা লাকা ওয়াল-মুলক। লা শারীকা লাক।
তালবিয়ার বাংলা অর্থ
হে আল্লাহ, আমি আপনার ডাকে উপস্থিত হয়েছি। আমি উপস্থিত হয়েছি। আপনার কোনো অংশীদার নেই। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, সব অনুগ্রহ এবং সমগ্র রাজত্ব আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই।
অফিসিয়াল ইহরাম নির্দেশিকায় একই তালবিয়া উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের এটি নিচু স্বরে পাঠ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিমানে মহিলাদের ইহরাম বাঁধার নিয়ম
বাংলাদেশ থেকে বিমানে হজ বা উমরাহ করতে গেলে মীকাতের সময় সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ বিমান খুব দ্রুত মীকাতের সমান্তরাল স্থান অতিক্রম করে।
প্রথমে বাড়ি বা বিমানবন্দর থেকে গোসল এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে নিন। এরপর পর্দাসম্মত ও আরামদায়ক পোশাক পরে বিমানে উঠতে পারেন।
বিমান মীকাতের কাছাকাছি পৌঁছালে সাধারণত যাত্রীদের জানানো হয়। ঘোষণা শুনে অথবা দলের মুয়াল্লিমের নির্দেশনা অনুযায়ী মীকাত অতিক্রমের আগেই নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করুন।
তবে জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছে ইহরাম গ্রহণ করার জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। মীকাত অতিক্রমের আগে ইহরাম গ্রহণ করতে হবে বলে অফিসিয়াল নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালনের প্রস্তুতি নিলে Latif Travels BD-এর হজ প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। অন্যদিকে, উমরাহ সফরের পরিকল্পনার জন্য Latif Travels BD-এর উমরাহ প্যাকেজ দেখুন।
ইহরাম অবস্থায় মহিলারা নেকাব পরতে পারবেন কি?
ইহরাম অবস্থায় মুখের গঠনের সঙ্গে ফিট করে তৈরি করা নেকাব পরা যাবে না। একইভাবে তৈরি করা হাতমোজাও ব্যবহার করা যাবে না।
সহিহ বুখারির বর্ণনায় ইহরাম অবস্থায় থাকা নারীকে নেকাব ও হাতমোজা না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে গায়রে মাহরাম পুরুষ সামনে থাকলে পর্দা বজায় রাখতে হবে। এ অবস্থায় মাথার ওড়না বা আলাদা কাপড় মুখের সামনে নামিয়ে রাখার বিষয়ে ফিকহি নির্দেশনা রয়েছে। সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের গাইডেও গায়রে মাহরাম পুরুষের উপস্থিতিতে নারীর মুখ ঢাকাকে নিষিদ্ধ কাজের মধ্যে রাখা হয়নি।
ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও অনুসৃত মাজহাব অনুযায়ী এ বিষয়ে বিশ্বস্ত আলেম বা দলের মুয়াল্লিমের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ইহরাম অবস্থায় মহিলারা কী কী করতে পারবেন?
ইহরাম গ্রহণের পর দৈনন্দিন সব কাজ বন্ধ হয়ে যায় না। বরং প্রয়োজনীয় অনেক কাজ করার অনুমতি রয়েছে।
একজন নারী ইহরাম অবস্থায়:
- প্রয়োজনে গোসল করতে পারবেন
- নোংরা বা ভেজা পোশাক পরিবর্তন করতে পারবেন
- জুতা, স্যান্ডেল ও মোজা পরতে পারবেন
- চশমা ও ঘড়ি ব্যবহার করতে পারবেন
- ছাতা ব্যবহার করতে পারবেন
- প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন
- ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ ব্যবহার করতে পারবেন
- সুগন্ধিমুক্ত পরিচ্ছন্নতার পণ্য ব্যবহার করতে পারবেন
পোশাক পরিবর্তন করলে ইহরাম নষ্ট হয় না। কারণ ইহরাম একটি ইবাদতের অবস্থা; এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট কাপড়ের নাম নয়। অফিসিয়াল নির্দেশিকায় গোসল, স্যান্ডেল ব্যবহার এবং ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করাকে নিষিদ্ধ কাজের বাইরে রাখা হয়েছে।
ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ কাজ
ইহরামে প্রবেশ করার পর কিছু কাজ থেকে নারী ও পুরুষ উভয়কেই বিরত থাকতে হয়। এছাড়া নেকাব ও হাতমোজার ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ বিধান রয়েছে।
ইহরাম অবস্থায় সাধারণভাবে নিচের কাজগুলো করা যাবে না:
- সুগন্ধি ব্যবহার করা
- ইচ্ছাকৃতভাবে চুল কাটা বা উপড়ানো
- নখ কাটা
- তৈরি করা নেকাব পরা
- তৈরি করা হাতমোজা পরা
- বিবাহের চুক্তি করা বা করানো
- স্বামী-স্ত্রীর যৌন সম্পর্ক স্থাপন
- শিকারযোগ্য স্থলজ প্রাণী শিকার করা
- ঝগড়া ও অশালীন আচরণে জড়িয়ে পড়া
সৌদি আরবের অফিসিয়াল ইহরাম গাইডেও নেকাব, হাতমোজা, সুগন্ধি, চুল বা নখ কাটা, বিবাহের চুক্তি, যৌন সম্পর্ক এবং শিকারকে ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনো নিয়ম ভুলে অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভঙ্গ হয়ে গেলে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং ঘটনাটি বিস্তারিতভাবে বিশ্বস্ত আলেম বা মুয়াল্লিমকে জানিয়ে করণীয় জেনে নিতে হবে।
মাসিক অবস্থায় নারী ইহরাম বাঁধতে পারবেন কি?
হ্যাঁ, মাসিক বা হায়েয অবস্থায় একজন নারী ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন।
মাসিক শুরু হওয়ার কারণে মীকাত অতিক্রম করে পরে ইহরাম গ্রহণ করা যাবে না। বরং তিনি গোসল করে হজ বা উমরাহর নিয়ত করবেন এবং তালবিয়া পাঠ করবেন।
ঋতুবতী নারী হজের অন্যান্য কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবা শরিফের তাওয়াফ করবেন না।
হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা মাসিক অবস্থায় পড়লে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে হাজিদের অন্যান্য কাজ করতে বলেন। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবার তাওয়াফ করতে নিষেধ করেন।
উমরাহর সময় মাসিক শুরু হলে কী করবেন?
তাওয়াফের আগে মাসিক শুরু হলে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ সময় ইহরামের সব বিধিনিষেধও মেনে চলতে হবে।
অন্যদিকে, ফেরার ফ্লাইট, ভিসার মেয়াদ বা শারীরিক সমস্যার কারণে বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তখন নিজের সিদ্ধান্তে কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দলের আলেম বা অভিজ্ঞ হজ গাইডের কাছ থেকে ব্যক্তিগত পরামর্শ নিতে হবে।
উমরাহ শেষে মহিলাদের চুল কাটার নিয়ম
উমরাহর তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করার পর নারীকে চুলের আগা থেকে অল্প অংশ কাটতে হয়।
প্রথমে সব চুল সমানভাবে একত্র করা ভালো। এরপর চুলের আগা থেকে সামান্য অংশ কাটতে হবে। কতটুকু কাটা হবে, সে বিষয়ে অনুসৃত মাজহাব বা দলের আলেমের নির্দেশনা অনুসরণ করা নিরাপদ।
নারীদের মাথা মুণ্ডন করতে হয় না। চুলের প্রয়োজনীয় অংশ কাটার পর তাহাল্লুল সম্পন্ন হয় এবং উমরাহর ইহরামের বিধিনিষেধ শেষ হয়।
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার সময় সাধারণ ভুল
সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক নারী অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভুল করে থাকেন। তাই সফরের আগে নিচের ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া দরকার।
সাদা পোশাক বাধ্যতামূলক মনে করা
মহিলাদের ইহরামের পোশাক সাদা হওয়া আবশ্যক নয়। যেকোনো শালীন ও মার্জিত রঙের পোশাক পরা যায়।
সেলাই করা পোশাক নিষিদ্ধ ভাবা
সেলাই করা পোশাক নারীদের জন্য নিষিদ্ধ নয়। তারা ঢিলেঢালা সালোয়ার-কামিজ, বোরকা অথবা আবায়া পরতে পারেন।
জেদ্দায় পৌঁছে নিয়ত করা
মীকাত অতিক্রমের আগেই নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করতে হবে। তাই জেদ্দায় পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়।
সুগন্ধিযুক্ত পণ্য ব্যবহার করা
ইহরাম অবস্থায় পারফিউম এবং সুগন্ধিযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলতে হবে। এ কারণে ব্যবহার করার আগে ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যের লেবেল পরীক্ষা করা ভালো।
নেকাব ও হাতমোজা পরে থাকা
ইহরামের নিয়ত ও তালবিয়া শুরু করার পর তৈরি করা নেকাব এবং হাতমোজা খুলে রাখতে হবে।
উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা
নারীরা নিজেরা শুনতে পারেন—এমন নিচু ও শান্ত স্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন।
সাঈ শেষ হওয়ার আগে চুল কাটা
তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন হওয়ার আগে চুল কাটা যাবে না। নির্ধারিত আমল শেষ হওয়ার পর চুলের আগা থেকে অল্প অংশ কাটতে হবে।
মহিলাদের ইহরাম সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
মহিলারা কি সালোয়ার-কামিজ পরে ইহরাম করতে পারবেন?
হ্যাঁ, সালোয়ার-কামিজ ঢিলেঢালা, অস্বচ্ছ ও পর্দাসম্মত হলে সেটি পরে ইহরাম গ্রহণ করা যাবে।
আবায়া বা বোরকা পরে ইহরাম করা যাবে কি?
হ্যাঁ, পরিষ্কার ও শালীন আবায়া বা বোরকা পরে ইহরাম গ্রহণ করা যায়। তবে পোশাকটি অতিরিক্ত আকর্ষণীয় হওয়া উচিত নয়।
ইহরাম অবস্থায় মহিলারা জুতা ও মোজা পরতে পারবেন কি?
হ্যাঁ, মহিলারা ইহরাম অবস্থায় জুতা, স্যান্ডেল এবং মোজা পরতে পারবেন।
ইহরামের পোশাক কি নতুন হতে হবে?
না, নতুন পোশাক কেনা আবশ্যক নয়। পরিষ্কার, আরামদায়ক ও পর্দাসম্মত পুরোনো পোশাকও ব্যবহার করা যাবে।
মহিলাদের জন্য আলাদা ইহরামের দোয়া আছে কি?
ইহরামের পোশাক পরার জন্য আলাদা নির্ধারিত দোয়া নেই। মনে হজ বা উমরাহর নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করতে হয়।
ইহরাম অবস্থায় পোশাক পরিবর্তন করা যাবে কি?
হ্যাঁ, পোশাক নোংরা, ভেজা বা অস্বস্তিকর হলে পরিবর্তন করা যাবে। এতে ইহরাম নষ্ট হবে না।
মাসিক অবস্থায় উমরাহর নিয়ত করা যাবে কি?
হ্যাঁ, মাসিক অবস্থায় উমরাহর নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করা যাবে। তবে পবিত্র হওয়ার আগে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা যাবে না।
ইহরামের কোনো নিয়ম ভুলে ভঙ্গ করলে কী করবেন?
ভুলের ধরন ও পরিস্থিতির ওপর করণীয় নির্ভর করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফিদইয়া বা ক্ষতিপূরণের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই বিশ্বস্ত আলেম বা মুয়াল্লিমের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মহিলাদের ইহরামের সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট
ইহরাম গ্রহণের আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন:
- গোসল ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পন্ন করা
- প্রয়োজন হলে নখ ও অপ্রয়োজনীয় লোম পরিষ্কার করা
- ঢিলেঢালা ও পর্দাসম্মত পোশাক পরা
- সুগন্ধিমুক্ত প্রয়োজনীয় পণ্য সঙ্গে রাখা
- মীকাতের সম্ভাব্য সময় জেনে নেওয়া
- মীকাত অতিক্রমের আগে নিয়ত করা
- নিয়তের পর তালবিয়া পাঠ করা
- তৈরি করা নেকাব ও হাতমোজা ব্যবহার না করা
- চুল, নখ ও সুগন্ধিসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা
- তাওয়াফ ও সাঈ শেষে চুলের আগা কাটা
শেষ কথা
মহিলাদের ইহরাম বাঁধার নিয়ম ও দোয়া কঠিন নয়। তবে সঠিক সময়ে নিয়ত করা, তালবিয়া পাঠ করা এবং ইহরামের বিধিনিষেধ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের জন্য নির্দিষ্ট দুই টুকরা সাদা ইহরামের কাপড় নেই। তাই পরিষ্কার, ঢিলেঢালা ও পর্দাসম্মত পোশাক পরেই ইহরাম গ্রহণ করা যায়। একইভাবে, মাসিক অবস্থাতেও নারী ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন; তবে পবিত্র হওয়ার আগে তাওয়াফ করা যাবে না।
সবশেষে, মাসিকসংক্রান্ত জটিলতা, শারীরিক অসুস্থতা অথবা ইহরামের কোনো নিয়ম ভঙ্গ হলে বিশ্বস্ত আলেমের কাছ থেকে ব্যক্তিগত নির্দেশনা নেওয়া উচিত।
Latif Travels BD-এর সঙ্গে হজ ও উমরাহ পরিকল্পনা করুন
Latif Travels BD হজ ও উমরাহযাত্রীদের জন্য ভ্রমণ প্রস্তুতি, প্যাকেজ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারা ১৯৬২ সাল থেকে হজ ও উমরাহযাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে আমাদের সম্পর্কে পেজটি দেখুন। হজের প্রস্তুতির জন্য হজ প্যাকেজ এবং উমরাহর পরিকল্পনার জন্য উমরাহ প্যাকেজ দেখতে পারেন।
আগের হজ ও উমরাহ সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত দেখতে Latif Travels Gallery ভিজিট করুন। সরাসরি পরামর্শ ও বুকিংসংক্রান্ত তথ্যের জন্য Latif Travels BD-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Leave a comment: