Hurry Up For your new Tour! Book Your Tour

আরাফার দিনের ফজিলত কি? রোজা, আমল ও দোয়া | Latif Travels
By, habib
  • 5 Views
  • 1 Min Read
  • (0) Comment

আরাফার দিনের ফজিলত কি—এ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে দিনটির মর্যাদা ও তাৎপর্য বুঝতে হবে। ইসলামে আরাফার দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত। এ দিনে লাখো হাজী আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং গুনাহের ক্ষমা চান।

অন্যদিকে, যারা হজে অংশ নেননি, তাদের জন্যও দিনটি বিশেষ সুযোগ নিয়ে আসে। তারা রোজা, তওবা, যিকির ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।

তবে অনেকেরই কিছু সাধারণ প্রশ্ন থাকে। যেমন, আরাফার দিন কবে, কারা রোজা রাখবেন এবং কোন আমল করা উত্তম। তাই এই লেখায় কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে বিষয়গুলো সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরাফার দিনের ফজিলত, রোজার সওয়াব, বিশেষ দোয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরা হয়েছে।

আরাফার দিন কাকে বলে?

ইসলামি চন্দ্রবর্ষের জিলহজ মাসের ৯ তারিখকে আরাফার দিন বলা হয়। আরবিতে এই দিনকে ইয়াওমে আরাফা বা ইয়াওমু আরাফাহ বলা হয়। এটি ঈদুল আজহার আগের দিন।

হজ পালনকারী মুসলিমরা এ দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করেন। নির্ধারিত সময়ে সেখানে অবস্থান করাকে উকুফে আরাফা বলা হয়। এটি হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” অর্থাৎ আরাফার ময়দানে অবস্থান ছাড়া হজ পূর্ণ হয় না। হাদিসটি জামে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে।

বাংলায় আরাফা, আরাফাহ এবং আরাফাত—তিনটি বানানই প্রচলিত। সাধারণত দিনটিকে আরাফার দিন বলা হয়। আর স্থানটিকে বলা হয় আরাফাতের ময়দান।

আরাফার দিনের বিশেষ মর্যাদা

আরাফার দিন শুধু হাজীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য এটি রহমত ও ক্ষমার দিন। এ দিনের সঙ্গে দ্বীনের পূর্ণতা, গুনাহ মাফ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির বিষয় জড়িত।

তাই আরাফাহ দিবসের গুরুত্ব বুঝে দিনটি ইবাদতে কাটানো উচিত।

দ্বীন পূর্ণ হওয়ার দিন

আরাফার দিনের বড় একটি ফজিলত হলো, এ দিনে ইসলামের পূর্ণতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম। আর ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”

সুরা আল-মায়িদা, আয়াত ৩।

হজরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আয়াতটি শুক্রবার আরাফার দিনে নাজিল হয়েছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে ছিলেন। বিস্তারিত সহিহ বুখারিতে পাওয়া যায়।

সুতরাং, আরাফার দিন ইসলামের ইতিহাসেরও একটি স্মরণীয় দিন।

গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগ

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ভুল হয়। কখনো জেনে, আবার কখনো না জেনে আমরা গুনাহ করি। তবে আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা রেখেছেন।

আরাফার দিন সেই ক্ষমা চাওয়ার অন্যতম সেরা সময়। তাই এ দিনে আন্তরিকভাবে তওবা করা উচিত। একই সঙ্গে আগের ভুল থেকে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শুধু মুখে ক্ষমা চাইলেই তওবা পূর্ণ হয় না। বরং গুনাহ ছেড়ে দিতে হয়। পাশাপাশি অনুতপ্ত হতে হয়। কারও অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হয়।

জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিন

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, আরাফার দিনের চেয়ে অন্য কোনো দিনে আল্লাহ এত বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করেন না।

এ দিনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কাছাকাছি হন। এরপর ফেরেশতাদের কাছে তাদের নিয়ে গর্ব করেন। হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

ফলে আরাফার দিন হতাশ হওয়ার দিন নয়। বরং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখার দিন।

আল্লাহ ফেরেশতাদের কাছে গর্ব করেন

আরাফার ময়দানে হাজীরা সাধারণ পোশাকে অবস্থান করেন। সেখানে ধনী-গরিবের পার্থক্য থাকে না। সবাই আল্লাহর সামনে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন।

তারা কান্না করেন, ক্ষমা চান এবং দোয়া করেন। বান্দাদের এই বিনয় আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়। তাই তিনি ফেরেশতাদের সামনে তাদের নিয়ে গর্ব করেন।

আরাফার রোজার ফজিলত

যারা হজে অংশ নেননি, তাদের জন্য আরাফার রোজা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এটি একটি নফল রোজা। তবে এর সওয়াব অনেক বড়।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আরাফার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এ রোজা আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা হয়। হাদিসটি সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

অর্থাৎ একটি নফল রোজার মাধ্যমে দুই বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ পাওয়া যায়। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় একটি অনুগ্রহ।

তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। এই ফজিলত ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করার অনুমতি দেয় না। বড় গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ফরজ দায়িত্বও ঠিকভাবে পালন করতে হবে।

আরাফার রোজা কারা রাখবেন?

যারা হজে অংশ নেননি, তারা আরাফার রোজা রাখতে পারেন। সুস্থ ও সক্ষম মুসলিমদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল আমল।

তবে রোজাটি ফরজ নয়। তাই অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে গুনাহ হবে না। তিনি অন্য আমলের মাধ্যমে দিনটি কাজে লাগাতে পারেন।

উদাহরণস্বরূপ, তিনি কুরআন তিলাওয়াত করতে পারেন। পাশাপাশি যিকির, দোয়া, সদকাহ ও ইস্তিগফার করতে পারেন।

হাজীরা কি আরাফার দিনে রোজা রাখবেন?

আরাফার ময়দানে থাকা হাজীদের জন্য সাধারণত রোজা না রাখাই উত্তম। কারণ হজের কাজ সম্পন্ন করতে শারীরিক শক্তি প্রয়োজন।

সহিহ বুখারিতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) আরাফার ময়দানে রোজা অবস্থায় ছিলেন না। সাহাবিদের সামনে তিনি দুধ পান করেছিলেন। বিস্তারিত সহিহ বুখারির বর্ণনায় রয়েছে।

আরাফার দিনে হাজীদের দীর্ঘ সময় দোয়া করতে হয়। এ ছাড়া তাদের অনেক চলাফেরা করতে হয়। তাই রোজা রাখলে দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

হজের নিয়ম ও প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে Latif Travels BD-এর হজ প্যাকেজ পেজ দেখুন। সেখানে হজযাত্রার বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে তথ্য রয়েছে।

বাংলাদেশে আরাফার রোজা কবে রাখতে হয়?

আরাফার রোজা জিলহজ মাসের ৯ তারিখে রাখতে হয়। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ঘোষিত ৯ জিলহজ অনুযায়ী রোজা পালন করা উচিত।

সৌদি আরব ও বাংলাদেশের চাঁদ দেখার তারিখে পার্থক্য হতে পারে। ফলে দুই দেশে একই দিনে ৯ জিলহজ নাও হতে পারে।

তাই তারিখ নিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত। প্রয়োজন হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক থেকে দূরে থাকাও জরুরি। কারণ মতবিরোধের কারণে যেন দিনটির আসল উদ্দেশ্য নষ্ট না হয়।

আরাফার রোজার নিয়ত

নিয়ত মূলত অন্তরের সিদ্ধান্ত। তাই আরাফার রোজার জন্য নির্দিষ্ট আরবি বাক্য বলা বাধ্যতামূলক নয়।

মনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই যথেষ্ট যে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আরাফার নফল রোজা রাখা হবে।

সহজভাবে মনে বলা যায়:

আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আরাফার নফল রোজা রাখার নিয়ত করলাম।

রাতে বা সাহরির সময় নিয়ত করা যেতে পারে। তবে মূল বিষয় হলো আন্তরিকতা।

আরাফার দিনের আমল ও করণীয়

আরাফার দিনের ফজিলত অর্জনের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল করা যায়। শুধু রোজা রাখাই যথেষ্ট নয়। বরং পুরো দিনকে ইবাদত ও ভালো কাজে ব্যবহার করা উচিত।

নফল রোজা রাখা

যারা হজে যাননি, তারা আরাফার রোজা রাখতে পারেন। রোজার সময় শুধু খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকলেই হবে না।

মিথ্যা, গিবত, ঝগড়া এবং খারাপ কথা থেকেও দূরে থাকতে হবে। এতে রোজার উদ্দেশ্য পূরণ হয়।

ফরজ নামাজ সময়মতো আদায় করা

নফল আমলের আগে ফরজ আমল ঠিক রাখা জরুরি। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করুন।

সম্ভব হলে নামাজের পর কিছু সময় যিকির করুন। পাশাপাশি দোয়া ও ইস্তিগফার করতে পারেন।

বেশি বেশি তওবা করা

আরাফার দিন নিজের ভুলগুলো নিয়ে ভাবুন। এরপর আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান।

সহজভাবে পড়তে পারেন:

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকে ফিরে আসি।

তবে শুধু উচ্চারণ করলেই যথেষ্ট নয়। জীবনে পরিবর্তন আনার চেষ্টাও করতে হবে।

বেশি বেশি দোয়া করা

আরাফার দিন দোয়ার জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। তাই নিজের প্রয়োজনগুলো আগে লিখে রাখতে পারেন।

তারপর মনোযোগ দিয়ে দোয়া করুন। নিজের জন্য দোয়া করার পাশাপাশি বাবা-মা ও পরিবারের জন্য দোয়া করুন।

এ ছাড়া অসুস্থ, ঋণগ্রস্ত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের জন্যও দোয়া করা উচিত। মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করুন।

যিকির করা

জিলহজের প্রথম দশ দিন বেশি বেশি আল্লাহর যিকির করা উত্তম। আরাফার দিনও এর অন্তর্ভুক্ত।

পাঠ করতে পারেন:

  • আল্লাহু আকবার
  • আলহামদুলিল্লাহ
  • সুবহানাল্লাহ
  • লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
  • আস্তাগফিরুল্লাহ

অল্প সময়ের মধ্যেও এসব যিকির করা যায়। ফলে কাজের ফাঁকেও আমল চালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

কুরআন তিলাওয়াত করা

এ দিনে কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াতের জন্য রাখুন। শুধু দ্রুত পড়ার চেষ্টা না করে অর্থ বুঝুন।

অল্প পরিমাণ পড়লেও মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। এরপর আয়াতের শিক্ষা জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন।

নফল সালাত আদায় করা

ফরজ সালাতের পাশাপাশি নফল নামাজ পড়া যায়। তবে নিষিদ্ধ সময়ে নফল নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ছাড়া নফল ইবাদতের কারণে পরিবার বা কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব অবহেলা করা উচিত নয়।

সদকাহ করা

সামর্থ্য অনুযায়ী দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করুন। অর্থ ছাড়াও খাবার, পোশাক বা প্রয়োজনীয় জিনিস দেওয়া যায়।

কাউকে সৎ পরামর্শ দেওয়াও একটি ভালো কাজ। একইভাবে বিপদগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করাও সওয়াবের কাজ।

আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক করা

কারও সঙ্গে মনোমালিন্য থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করুন। আগে কথা বললে সম্মান কমে যায় না।

বরং ক্ষমা করা এবং সম্পর্ক ঠিক করা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ হতে পারে। তাই অহংকার ছেড়ে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে শিখুন।

আরাফার দিনের শ্রেষ্ঠ দোয়া

হাদিসে আরাফার দিনের দোয়ার বিশেষ মর্যাদা এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।

এ দিনে নিচের যিকিরটি বেশি পড়া যায়:

আরবি:

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ

উচ্চারণ:

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ:

আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি একক এবং তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

হাদিসটি জামে তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে।

তবে শুধু এই দোয়াই পড়তে হবে, এমন নয়। নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়। আল্লাহ বান্দার অন্তরের কথা জানেন।

আরাফার দিনের একটি সহজ আমল পরিকল্পনা

পরিকল্পনা ছাড়া অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ দিনও অপ্রয়োজনীয় কাজে চলে যায়। তাই আগে থেকেই একটি ছোট পরিকল্পনা করা ভালো।

সাহরির সময়

সাহরি গ্রহণ করুন এবং রোজার নিয়ত করুন। এরপর কিছু সময় ইস্তিগফার করুন।

ফজরের পর

ফজরের নামাজ আদায় করুন। তারপর সকালের যিকির ও কুরআন তিলাওয়াত করুন।

সকাল থেকে দুপুর

কাজের ফাঁকে ছোট ছোট যিকির করুন। অপ্রয়োজনীয় কথা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকুন।

জোহরের পর

দুই রাকাত নফল নামাজ পড়তে পারেন। এরপর নিজের ভুলগুলোর জন্য তওবা করুন।

আসরের পর

এই সময় দোয়া ও যিকিরে বেশি মনোযোগ দিন। নিজের প্রয়োজনগুলো আল্লাহর কাছে তুলে ধরুন।

ইফতারের আগে

ইফতারের আগের সময়টি দোয়ায় কাটান। নিজের পাশাপাশি পরিবার ও মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করুন।

মাগরিবের পর

আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন। এরপর ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিতে পারেন।

আরাফার দিন ও হজের সম্পর্ক

আরাফার দিন হজের মূল অংশের সঙ্গে যুক্ত। ৯ জিলহজ হাজীরা মিনা থেকে আরাফার ময়দানে যান।

সেখানে তারা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করেন। এই অবস্থানকেই উকুফে আরাফা বলা হয়।

হাজীরা এ সময় বেশি বেশি দোয়া করেন। তারা গুনাহের ক্ষমা চান এবং আল্লাহর নৈকট্য কামনা করেন।

হজ শুধু একটি ভ্রমণ নয়। বরং এটি শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক ইবাদত। তাই যাত্রার আগে সঠিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

Latif Travels BD হজ ও ওমরাহযাত্রীদের বিভিন্ন ভ্রমণসেবা দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি ও অভিজ্ঞতা জানতে আমাদের সম্পর্কে পেজ দেখুন।

আগের হজ ও ওমরাহ সফরের কিছু মুহূর্ত দেখতে Latif Travels BD-এর গ্যালারি দেখা যেতে পারে।

আরাফার দিনে যেসব কাজ এড়িয়ে চলবেন

আরাফার দিনের আমল নষ্ট করতে পারে এমন কাজ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো এড়িয়ে চলুন:

  • মিথ্যা বলা
  • গিবত ও অপবাদ দেওয়া
  • ঝগড়া ও তর্ক করা
  • অশালীন কনটেন্ট দেখা
  • নামাজে অবহেলা করা
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট করা
  • অন্যের অধিকার নষ্ট করা
  • লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করা

পাশাপাশি অন্যের আমল নিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়। বরং নিজের সংশোধনের দিকে মনোযোগ দিন।

আরাফার দিন সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা

আরাফার রোজা রাখলেই সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়

হাদিসে দুই বছরের গুনাহের কাফফারার সুসংবাদ এসেছে। তবে এর অর্থ ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ চালিয়ে যাওয়া নয়।

বড় গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা প্রয়োজন। মানুষের হক নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে।

শুধু হাজীদের জন্য আরাফার দিনের ফজিলত

আরাফার ময়দানে অবস্থান শুধু হাজীদের জন্য। তবে রোজা, দোয়া, তওবা ও যিকিরের সুযোগ সবার জন্য রয়েছে।

আরবি ভাষায় দোয়া না করলে কবুল হয় না

কুরআন ও হাদিসের দোয়া পড়া উত্তম। তবে নিজের ভাষায়ও আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়।

দোয়ার ক্ষেত্রে ভাষার চেয়ে আন্তরিকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নির্দিষ্ট আরবি বাক্য ছাড়া নিয়ত হয় না

নিয়ত অন্তরের সিদ্ধান্ত। তাই মুখে নির্দিষ্ট বাক্য বলা বাধ্যতামূলক নয়।

হজ ও ওমরাহ যাত্রার প্রস্তুতি

হজ ও ওমরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই শুধু ভিসা ও টিকিটের ব্যবস্থা করলেই প্রস্তুতি শেষ হয় না।

হজের নিয়ম, প্রয়োজনীয় দোয়া এবং বিভিন্ন স্থানের কার্যক্রম আগে জানতে হবে। একই সঙ্গে শারীরিক প্রস্তুতিও নিতে হবে।

হজের প্যাকেজ ও ব্যবস্থাপনা জানতে Latif Travels BD-এর হজ সেবা দেখুন।

ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা থাকলে ওমরাহ প্যাকেজ পেজ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।

আরও সহায়তার জন্য Latif Travels BD-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সেখানে অফিসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর পাওয়া যাবে।

আরাফার দিনের ফজিলত সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

আরাফার দিন কি ৯ জিলহজ?

হ্যাঁ। জিলহজ মাসের ৯ তারিখকে আরাফার দিন বলা হয়।

আরাফার রোজা কি ফরজ?

না। এটি একটি ফজিলতপূর্ণ নফল রোজা।

আরাফার রোজা রাখলে কী সওয়াব পাওয়া যায়?

হাদিস অনুযায়ী, এ রোজা আগের ও পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারার কারণ হতে পারে।

হাজীরা কি আরাফার রোজা রাখবেন?

আরাফার ময়দানে অবস্থানকারী হাজীদের জন্য সাধারণত রোজা না রাখাই উত্তম। এতে তারা হজের আমল ও দোয়ায় শক্তি পান।

বাংলাদেশে আরাফার রোজা কোন দিন?

বাংলাদেশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী ৯ জিলহজ আরাফার রোজা রাখতে হবে।

আরাফার দিনের সর্বোত্তম আমল কী?

অ-হাজীদের জন্য রোজা, তওবা, দোয়া, যিকির, কুরআন তিলাওয়াত ও সদকাহ গুরুত্বপূর্ণ আমল।

আরাফার দিনের দোয়া কি শুধু আরবিতে করতে হবে?

না। হাদিসে বর্ণিত যিকির পড়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায়ও দোয়া করা যায়।

আরাফার রোজার জন্য মুখে নিয়ত বলতে হবে কি?

না। অন্তরে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত থাকাই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট।

উপসংহার

আরাফার দিন মুসলিমদের জন্য রহমত, ক্ষমা ও নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ। এ দিনে ইসলামের পূর্ণতার আয়াত নাজিল হয়েছিল। পাশাপাশি অসংখ্য বান্দা জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করেন।

যারা হজে অংশ নেননি, তাদের জন্য আরাফার রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ। এ রোজা দুই বছরের গুনাহের কাফফারার কারণ হতে পারে।

তাই দিনটিকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগান। রোজা রাখা সম্ভব হলে রোজা রাখুন। পাশাপাশি নামাজ, তওবা, দোয়া ও যিকিরে সময় দিন।

হজ বা ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা থাকলে Latif Travels BD থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিতে পারেন। প্যাকেজ, ভিসা, ফ্লাইট ও আবাসন বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ পেজ দেখুন।

Leave a comment:

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Join The Newsletter

To receive our best monthly deals

vector1 vector2